আমার ঈশ্বর, আমার নবী

Sukumar Roy (1887-1923)

সুকুমার রায়কে যারা নিছক ননসেন্স পদ্যকার বা ছড়াকার ভাবে, তারাই আসলে ননসেন্স এবং ইস্টুপিট। শুধু তাই নয়, তারাই হল আসলে বাঁদর এবং প্যাঁচা, এবং তাদের গোঁফ ধরে খুব নাচা উচিত।

ঠাস্ ঠাস্ দ্রুম্ দ্রাম্, শুনে লাগে খট্‌কা—
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পট্‌কা!
শাঁই শাঁই পন্‌পন্, ভয়ে কান্ বন্ধ—
ওই বুঝি ছুটে যায় সে-ফুলের গন্ধ?

এই পর্য্যন্ত পড়ে যাদের গোয়েবেলস, হিমলার, রাশিয়ান প্রচার যন্ত্র, কিম্বা মোদীর কথা মনে পড়েনা, তারা সবাই হাতিমি। জীবনে বেঁচে থাকার কোন উদ্দেশ্য বা সার্থকতা কোনটাই তাদের নেই। ‘নই জুতা, নই ছাতা, নই আমি কিচ্ছু’ – তাদের কবরে এই এপিটাফ লেখা থাকুক বেশ টাফ খোদাই করে। তারা সবাই বিনে চশমাতে পষ্ট দেখুক পান্ত ভূতের জ্যান্ত ছানা, তারা থাকুক কাশ্মীরে। অথচ সুকুমার রায় এদের কাউকে দেখেননি চর্মচক্ষে, মারা গেছেন ১৯২৩ সালে।

সব লিখেছে, কেবল দেখ পাচ্ছি নেকো লেখা কোথায়—
পাগলা ষাঁড়ে কর্‌লে তাড়া কেমন ক’রে ঠেকাব তায়!

এ যে কি ভয়ংকর মেধাবী ছাত্র, পেট থেকে পড়তেই আই আই এম-এর গেটের স্তম্ভ থেকে ডেকে ওঠে ‘আয় আয়’ বলে – সে কথা আজ নিশ্চয়ই বলে দিতে হবেনা। এরা বই পড়ে, তিনমাসে হাজার না হলেও পড়ে, খায়, কিন্তু গেলেনা। প্রবাদপ্রতিম জ্যোতিবাবুর ন্যাজ ছিলনা, একটাও না, দুটো তো অনেক দূরের কথা। কিন্তু বাকী সমস্ত ক্রাইটেরিয়া হুঁকোমুখো হ্যাংলার সঙ্গে কি অসাধারণ ভাবে মিলে যায়, সেটা যারা জ্যোতিবাবুর কেন্দ্রীয় বঞ্চনার সারেগামা টিম্‌টিম্‌ না শুনেছে তারা বুঝবে কিনা সন্দেহ। ডানদিকে কংগ্রেস, বামে নকশাল – সবার জন্যে ন্যাজাস্ত্রের ব্যবস্থা হল। কিন্তু মধ্যপন্থী হাতবাক্সকূল? “দুটি বই ন্যাজ মোর নাইরে”। আর ঠিক তারপরেই এসে হাজির ‘ভয় পেয়োনা’-র সেই জন্তুটি – “অভয় দিচ্ছি শুনছোনা যে, ধরব নাকি ঠ্যাং দুটা?” কর্পোরেটের ট্যাঁশগরুদের সঙ্গে তাঁর নিত্য যাওয়া আসা – কিন্তু সিঙ্গুরের আলু খেলে যে বুদ্ধি ভেস্তিয়ে যায়না সত্যিই – এটা কোন বদ্যিই তাঁকে বলে দিলনা। সুতরাং অচিরেই দখল নিল বোম্বাগড়ের রাজার পিসি, যার ভাইপো ছবির ফ্রেমে টাঙিয়ে রাখে আমসত্ত্ব ভাজা, আর পিসি কুমড়ো দিয়ে ক্রিকেট খেলে, আর ফুটপাতে ধুমধাম করে সারা বছর।

অথচ সুকুমার রায় এদের কাউকে দেখেননি।

তিনি এমনকি সাদাকে লালও বলেননি।

দেশের বাজেটমন্ত্রী, আচার-আন্টিকে দেখে মনে পড়েনা এই লাইনগুলো -?

কাঁটা দিয়ে আঁটা ঘর— আঠা দিয়ে সেঁটে,
সুতো দিয়ে বেঁধে রাখে থুতু দিয়ে চেটে।

অমিত শা’কে দেখে কুমড়োপটাশের কথা মনে পড়েনা? আমার পড়ে। কিছুতেই সিরিয়াসলি নিতে পারিনা এদের। এবং সমস্যাটা সেইখানেই। নবী এদের দিব্যচক্ষুতে দেখেছেন, আমাদের দেখতে হচ্ছে এবং এদের সঙ্গেই বাঁচতে হচ্ছে। সুতরাং –

আমরা তবু তবলা ঠুকে গাচ্ছি কেমন তেড়ে,
“দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম্! দেড়ে দেড়ে দেড়ে!”


ঘুম নাহি তার চোখে আপনি ব’কে ব’কে
আপনারে কয়, “হাসিস যদি
মারব কিন্তু তোকে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.