কাশ্মীরের পণ্ডিতসমাজের নিষ্ক্রমণ সম্পর্কে কিছু কথা

অধ্যাপক শুভ বসু

কাশ্মীরের বিষয়ে লেখার সময় বহু অজানা এবং অচেনা বন্ধু আমার দেয়ালে মন্তব্য করেছিলেন পণ্ডিতদের হাল দেখুন। দীর্ঘদিন ইতিহাসচর্চার পর মনে হলো এই প্রশ্নের একটি যথাযথ আলোচনা প্রয়োজন। জম্মু কাশ্মীর ভারতীয় উপমহাদেশের আর পাঁচটি অঞ্চলের মতো বহুভাষিক বহু ধর্মের মানুষের বসবাস। মূলত কাশ্মীর উপত্যকাতে মুসলিম প্রাধান্য, জম্মু তে হিন্দুপ্রাধান্য এবং লাদাখের কার্গিল অঞ্চলে শিয়া মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকদের প্রাধান্য এবং উল্লেখযোগ্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতি লেহ্‌ অঞ্চলে। কিন্তু এর মধ্যেই ভাষা, ধর্ম এবং নানাবিধ জাতীয়তাবাদের কুস্তি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সম্পর্ক চিড় ধরিয়েছে। সেই নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন আছে। যদিও সেই প্রশ্ন উপস্থাপনার ভঙ্গিটা অদ্ভুত । কারো মতে “ওরা” যদি হিন্দু পণ্ডিতদের বিতাড়ন করতে পারেন তাহলে ‘আমরাই’ বা কেন স্বাধিকার হরণ করতে পারবো না। এই ওরা আর আমরা কারা তা নিশ্চয় ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে বলে দিতে হবে না। কারো মতে হিন্দুদের বিতাড়ন নিয়ে কেউ কেন কথা বলেন না। অন্য দিকে এটাও সত্যি যে গত দুই দশক ধরে ভারত সরকার কাশ্মীরিদের বিষয়ে পণ্ডিতদের দুরবস্থার কথা প্রচুর বলেছেন কিন্তু কাশ্মীরের পণ্ডিতদের পুনর্বাসনের কোনও উল্লেখ্য উদ্যোগ ভারত সরকার গ্রহণ করেন নি। আর পাকিস্তানের সরকার এবং বিভিন্ন ঐস্লামিক উগ্রবাদী সংগঠন তো বলেছেন বেশ করা হয়েছে তাড়ানো হয়েছে। আবার আর এস এস ও তার শাখাগুলির কথা শুনে মনে হয় কাশ্মীরে শুধু পণ্ডিতদের অনুপস্থিতি একমাত্র সমস্যা। এবং তার বহু অতিরঞ্জিত বিবরণ তারা পেশ করেই থাকেন। কিন্তু পণ্ডিতদের কাশ্মীর থেকে ১৯৮৯-১৯৯০ সালে নিষ্ক্রমণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। তা দীর্ঘকালীন কাশ্মীরের স্বাধিকার নিয়ে নানা রাজনীতির ফলশ্রুতি সে কথা স্মরণ করানো কর্তব্য বলে মনে করি। আর কাশ্মীর সমস্যার বিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। আমি তাই এখানে কাশ্মীরের সমাজের একটি ঐতিহাসিক চিত্র রেখা উপস্থাপিত করার চেষ্টা করছি। হয়তো এ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনার সম্মুখীন হবো কিন্তু এটি জরুরি বলে মনে করি। বিতর্ক গণতন্ত্রের অংশ। আর অধ্যাপক অর্মত্য সেন তো তার গ্রন্থের নামই দিয়েছেন তার্কিক ভারতীয়।

কাশ্মীরিয়াত ও তার ইতিহাস

কাশ্মীর, ইসলাম ধর্মের প্রবর্তনের পূর্বে, একটি বর্ণবাদী সমাজ ছিল যার উপরে ছিলেন ব্রাহ্মণ পণ্ডিতরা যারা নিম্ন বর্ণের হিন্দু চাষি এবং কারিগরদের উপরে প্রভুত্ব করতেন। প্রাচীন নীলমত পুরাণ এ উল্লেখ আছে যে হিন্দু রাজা নীলাঙ্গ যে আইন চালু করেছিলেন তাতে ব্রাহ্মণদের একই অপরাধে গরিব নিম্ন বর্ণের মানুষদের চাইতে সাজা অনেক কম হতো। এই ব্রাহ্মণ্যধর্মের প্রতিবাদ হিসাবে বৌদ্ধধর্মের উত্থান ঘটে। বৌদ্ধধর্ম কিন্তু ব্রাহ্মণ্যবাদীদের পছন্দ ছিল না। জয়রথ বলে এক পণ্ডিতের ভাষ্য হরচরিত চিন্তামণি অনুযায়ী বৌদ্ধধর্মের প্রভাবে বলিদান এবং নানাধরণের প্রথা কাশ্মীরে বিলুপ্ত হয়। তিনি বুদ্ধকে দানব বলে অভিহিত করেন এবং সরাভক্তমনাঃ [sic] বুদ্ধকে জগৎ সংসারের ধ্বংসকারী বলেন। তবে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব কমার পরে প্রচলিত ব্রাহ্মণ্য প্রথার বিরুদ্ধে শৈব ধর্মের উত্থান হয়। পুরোহিততন্ত্র তাতেও কাশ্মীরের সমাজে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। প্রখ্যাত আদিমধ্য যুগের ভারতের ঐতিহাসিক কলহণ রাজতরঙ্গিণীতে প্রতিবাদী শৈবদের হিন্দুদের প্রচলিত ধর্মমতের বিরোধী বলে উল্লেখ করেন।

প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী মুহাম্মদ-বিন-কাশেমের সৈন্যরা যখন সিন্ধু রাজা দাহীর কে পরাজিত করেন তখন দাহিরের সন্তান জয়সিয়া কাশ্মীরে পলায়ন করেন আর তার সঙ্গ দেন হামিম-বিন-সামা বলে তার এক সিরিয়ান সেনা। কাশ্মীরের হিন্দু রাজা তাকে সাদরে গ্রহণ করেন এবং তাকে জমি দেন যাতে তিনি মসজিদ স্থাপন করেন। তিনি কাশ্মীরের সর্বপ্রথম মুসলমান। এ ছাড়া নবম শতাব্দী তে কাশ্মীরের এক অজানা ‘হিন্দু’ রাজা আমির ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘উমার বিন ‘আব্দুল ‘আজিজ মনসুরাকে অনুরোধ করেন একজন পণ্ডিত ব্যক্তি পাঠাতে যিনি ইসলামিক শরিয়া আল-হিন্দিয়া ভাষায় ব্যাখ্যা করতে পারেন। নবম শতাব্দীর হিন্দু রাজা মেহরোক পবিত্র কোরানের অনুবাদের জন্যে এক পণ্ডিত ব্যক্তির সন্ধান করেন আরব রাজাদের কাছে ।আরব অভিযাত্রী বুজুর্গ বিন শাহরিয়ার তার ভ্রমণ কাহিনী আজ’ইব-আল হিন্দ (The Wonders of India) এর উল্লেখ করেন। দ্বাদশ শতাব্দীর ভারত বিখ্যাত ঐতিহাসিক বা কাহিনীকার কলহণ ,প্রথম রাজতরঙ্গিণী অনুযায়ী, কাশ্মীরি হিন্দু রাজা হর্ষদেব (১০৮৯ –১১০১ খ্রিস্টাব্দে) বহু ম্লেচ্ছকে (একটি অবমাননাকর শব্দ) তার রাজ্ দরবারে নিয়োগ করেন। এখন ইতিহাস নিয়ে যে প্রচার হয় যে ভারতের “আদি মধ্যযুগে হিন্দু মুসলমানের ইতিহাস সংঘাতময়” তা একান্তই অনৈতিহাসিক ব্যাখ্যা।


কাশ্মীরে ইসলামের প্রচারে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেন সায়েদ শরাফ-উদ-দিন আব্দুর রহমান সুহরাবর্দি। যিনি কাশ্মীরের জনগণের কাছে বুলবুল শাহ বলে পরিচিত। তার প্রভাবেই কাশ্মীরের লাদাখের বৌদ্ধ বংশোভূত রাজা রিনচান শাহ (লহছান গুলবু রিণচান) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার রাজত্ব কাল ১২৯০ থেকে ১৩২০ খ্রিস্টাব্দ। কথিত আছে রিনচান শাহ লাদাখের বৌদ্ধ হয়েও ব্রাহ্মণ্য ধর্মে দীক্ষিত হতে গিয়েছিলেন। সেই সময় কাশ্মীর উপত্যকাতে শৈব ধর্ম প্রচলিত ছিল। রিনচান শাহ শৈব প্রধান শ্রী দেবস্বামীকে তাকে সেই ধর্মে দীক্ষিত করার কথা বলেন। দেবস্বামী পণ্ডিতদের পরামর্শ নিলে তারা বলেন একজন ভোট (slang for Tibetan) কে তারা দীক্ষা দিতে পারবেন না। পরে সুফী সন্ত বুলবুল শাহ তাকে ইসলামে দীক্ষা দেন। তবে এই গল্পটি অতি সরলীকৃত। খুব সম্ভবত রাজ্ দরবারে নানা চক্রান্ত, দলবাজি এবং বৌদ্ধ ও হিন্দু সভাসদদের মধ্যে বৈরিতার জন্যে তিনি ধর্মান্তরিত হন। বর্তমান সামাজিক ঐতিহাসিকরা রাজার ধর্মান্তকরণে প্রজার ধর্মান্তকরণ হবে এটা বিশ্বাস করেন না।


তার পরে মীর সৈয়দ আলী হামদানী (১৩১৪-১৩৮৪) ইসলামের প্রচার করেন কাশ্মীরে। তার জন্ম ছিল ইরানের হামদানে এবং মৃত্যু হয় তাজিকিস্তানে। তিনি কুবরাবীয়া সিলসিলার সুফী সন্ত ছিলেন। রিনচান শার কাহিনী জনরাজা লিখিত দ্বিতীয় রাজতরঙ্গিণীতে উল্লেখিত আছে। সিকান্দর শাহ এর সময়ে তার প্রধান মন্ত্রী সুহা ভাট যিনি ব্রাহ্মণ থেকে মুসলমানে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন, তার অত্যাচারের কাহিনী বিধৃত আছে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা মুসলমান শাসকদের প্রভাবিত করেন পণ্ডিতদের বিরুদ্ধে যেতে। পূর্ণি নামে একজন ক্ষৌরকর্মী নাকি সুলতান হায়দার শাহ কে প্রভাবিত করেছিলেন পণ্ডিতদের উপর অত্যাচারে। তবে কাশ্মীরের ইতিহাসে পণ্ডিতদের উপরে অত্যাচার হিন্দু রাজাদের সময়েও হয়েছে। জালাউকা এবং কলস নামে দুই হিন্দু রাজা এবং পরে রাজা হর্ষ (১০৮৯ -১১০১ খ্রিস্টাব্দ), মন্দিরের সঞ্চিত ধনরত্ন লুঠ করেন এবং বিগ্রহ গলিয়ে সোনা আর রুপোর মুদ্রা তৈরী করেন রাজকোষের আর্থিক সংকট কাটাতে। অর্থাৎ রাজনীতি এবং রাজকীয় অর্থনীতি পরিচালিত হতো রাজা এবং তার সামন্তবর্গের স্বার্থের জন্যে। ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ছিল কিন্তু রাজস্বার্থে ধর্মর নীতি রাজারা অতিক্রম করতেন তা তিনি হিন্দুই হন বা মুসলমানই হন। জনারাজা কর্তৃক লিখিত দ্বিতীয় রাজতরঙ্গিণী সুলতান জৈন উল আবেদীন(১৪২০ -১৪৭০) এর সময়ে লেখা হয়। তিনি দেখিয়েছেন কি ভাবে কাশ্মীরে মুসলমান রাজবংশ ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু রাজবংশর জায়গা নিয়েছে। জৈন-উল আবেদীন এই রচনার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এর পরে তৃতীয় রাজতরঙ্গিণী লেখেন জনরাজার শিষ্য শ্রীভর সুলতান জৈন-উল আবেদীন এর সময়ে।

কিন্তু ইসলাম কাশ্মীরে তার পূর্বতন কাশ্মীরি সত্বাকে অস্বীকার করে বিকশিত হয়নি। বরং তার অতীতের সাথে সংলাপের মধ্যে দিয়ে একটি নিজস্ব সাংস্কৃতিক রূপ লাভ করেছে। কাশ্মীরে শৈব প্রভাব ছিল সংস্কৃতির মধ্যে। লালেশ্বরী (১৩২০-১৩৯৪ খৃস্টাব্দ) জন্ম গ্রহণ করেন পান্ডরেথান এ কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারে। মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেন এবং শৈবগুরু সিদ্ধ শ্রীকণ্ঠর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ত্রিকা বলে এক শৈব ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার রচিত বাক বা অজ্ঞেয়বাদী কবিতা কাশ্মীরে নানাধারার সন্তদের প্রভাবিত করে। এবং মুসলমানদের মধ্যে লাল্লা আরিফা নামে পরিচিত হন।এই সময়ে কাশ্মীরের সুফীসন্তদের মধ্যে ঋষি ধারার বিকাশ ঘটে। ঋষি সন্তরা একাকিত্বে বিশ্বাস করতেন এবং নির্জনে জপ করতেন। তারা নিরামিষ আহারী ছিলেন। এদের প্রতিষ্ঠাতা হলেন শেখ নূর-উদ-দিন-ওয়ালী যিনি শেখ উল-আলম নামেও অভিহিত হন। আবার তার জনপ্রিয় নাম হলো নন্দঋষি। ইনি হিন্দুদের মধ্যে সহজানন্দ বলে পরিচিত। ইনি লালেশ্বরীর দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। প্রচলিত বিশ্বাস যে তিনি লালেশ্বরীর স্তন্য পান করেন এবং তাকে মা হিসাবে ডাকেন। তার কবিতা শরুখস নামে পরিচিত। বাবা নসিব-উদ-দিন গাজী পারসী ভাষায় নূরনামা রচনা করেন নন্দঋষির মৃত্যুর প্রায় দুশো বৎসর পরে। নন্দঋষির লেখায় ক্রমাগত হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের বাণী প্রচারিত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর হিন্দু সন্ত পণ্ডিত মির্জা কক কাশ্মীরে অতি পরিচিত নাম। ইনি অনন্তনাগ জেলার হাঙ্গুলগুন্ড এর সন্ত। এর লেখাতেও তওহীদ এর ধারণার প্রভাব রয়েছে। কাশ্মীরের এই সাংস্কৃতিক ইতিহাস অনেকেই নেহরুবাদি জাতীয়তাবাদী মিথ বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু এই ইতিহাসের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে আমি মনে করি।

ডোগরা রাজত্বে কাশ্মীর পন্ডিত সমাজ

১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জম্মুর রাজা গুলাব সিং কে কাশ্মীর বিক্রি করেন। সেই থেকে ১৯৪৭ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত কাশ্মীর ডোগরা শাসকদের অধীনে ছিল এবং ১৮৫৭র মহাবিদ্রোহে ডোগরা রাজা বিদ্রোহী সিপাহিদের দমনে অংশগ্রহণ করে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর আস্থাভাজন হন। ডোগরা শাসকরা কাশ্মীরে একধরণের সামন্তবাদী প্রথা চালু করেন। কাশ্মীরের ডোগরা আমলে পণ্ডিত সমাজের যথেষ্ট উন্নতি হয়। তারা সবচেয়ে উর্বর জমিগুলোর মালিকানা পান এবং সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাদেরকে নিযুক্ত করা হয়। গ্রামাঞ্চলেও অন্য কৃষকদের জোর করে শ্রমদানের ব্যবস্থা থাকলেও পণ্ডিত সমাজ ব্রাহ্মণ হিসাবে এর থেকে নিষ্কৃতি পান। ডোগরা আমলে পণ্ডিত সমাজ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। তারা সুদের ব্যবসাতে গ্রামাঞ্চলে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন এবং কাশ্মীরের বাইরে ও বিভিন্ন জায়গায় পণ্ডিত সমাজের বসতি গড়ে ওঠে এই সময় দিল্লির চাঁদনি চকে কাশ্মীরের একটি পণ্ডিত পরিবার খালের ধারে বসবাস করার জন্য নেহেরু নামে পরিচিত হন। এবং পরবর্তীকালে এই পরিবারে মতিলাল এবং জবাহরলাল জন্ম গ্রহণ করেন।


তবে ডোগরা আমলে জম্মু-কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের অবস্থার অবনতি হয় তারা প্রভূত করভারে ঋণে জর্জরিত হন। দারিদ্র তাদের গ্রাস করে ফেলে এবং বহু কৃষক কাশ্মীরের বাইরে পাঞ্জাবে রেল কুলি হিসেবে কাজ নেন যাতে তারা কর শোধ করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে এই কৃষকরা ঋণগ্রস্ত ছিলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতসমাজের অর্ধমন্যদের [sic] কাছে। এবং সেই কারণে ১৯৩১ সালে যখন মিরপুর অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় তখন কাশ্মীরি পণ্ডিত সুদের ব্যবসায়ীরা মুসলমান কৃষকদের দ্বারা আক্রান্ত হন। তবে মূলগতভাবে ধর্মীয় ভিত্তিতে দেখতে গেলে পণ্ডিত সমাজ কাশ্মীরের সাধারণ সমাজের তুলনাতে অনেক স্বচ্ছল ছিলেন ডোগরা আমলে। ১৯৩০ এর দশকে পণ্ডিত সমাজে সংস্কার আন্দোলন গড়ে ওঠে। জাতপাতের বিরুদ্ধে, বিধবা বিবাহের সপক্ষে সংস্কারকরা মনোযোগ দেন। এই মুক্তমনা সংস্কারকদের অনেকে শেখ আব্দুল্লাহর সঙ্গে হাত মিলান ডোগরা সামন্ত প্রভুদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে। কাশ্যপ বন্ধু, শ্যামলাল সরাফ, জিয়া লাল কইলাম প্রভৃতি পন্ডিতরা ন্যাশনাল কনফারেন্স এর আন্দোলনে যোগ দেন।


স্বাধীন ভারতে কাশ্মীর


স্বাধীনতার পর শেখ আব্দুল্লাহ-র সময়ে যে ভূমিসংস্কার অনুষ্ঠিত হয় তার ফলে সামন্ততান্ত্রিক জমিদার পরিবারগুলি একান্ত ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এই জমিদার পরিবারের অধিকাংশই মানুষ ছিলেন ডোগরা ও পণ্ডিত সম্প্রদায়ের। তার ফলে বেশ কিছু পণ্ডিত সমাজের মানুষ কাশ্মীরের বাইরে চাকরির সন্ধান করেন এবং দিল্লিতে একটি বিশেষ বসতি গড়ে ওঠে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের। ভারতে তাদের শিক্ষার জোরে গুরুত্বপূর্ণ স্থান আমলাতন্ত্রে অধিকার করেন এবং শ্রীমতি গান্ধীর সময় তার ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন প্রখ্যাত গণসমাজতন্ত্রী কাশ্মীরি চিন্তাবিদ পরমেশ্বর নারায়ণ হাকসার এবং সোভিয়েট্ ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন ত্রিলোকী নাথ কাউল। আর ভারতের গুপ্তচর বিভাগ RAW এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রামেশ্বর নাথ কাও। আর এক কাশ্মীরি পন্ডিত দুর্গাপ্রসাদ দ্বার ছিলেন ভারতের সোভিয়েট্-এ রাষ্ট্রদূত। এরা চারজনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালিদের সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কিন্তু এদের মধ্যে দুজনের জন্ম কাশ্মীরের বাইরে। অর্থাৎ কাশ্মীর পণ্ডিতসমাজ বিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকেই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং স্বীয় প্রতিভা বলে ভারতে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। কাশ্মীরের পণ্ডিতদের একটি অংশ শেখ আব্দুল্লাহর রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করে। দূর্গাপ্রসাদ দ্বার নিজে শেখ আব্দুল্লাহর ১৯৪৬ সালের মহারাজা কাশ্মীর ছাড়ো আন্দোলনে সহযোগী ছিলেন। প্রেমনাথ বাজাজ ছিলেন তার সহযোগী। এমনকি প্রেমনাথ বাজাজ ভারতে কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তিকরণের বিরোধী ছিলেন এবং আব্দুল্লাহকে তাকে জেলে ভরতে হয়েছিল (১৯৪৭)। পণ্ডিত রঘুনাথ বৈষ্ণভি পিপলস কনফারেন্স-এর নেতা ছিলেন এবং তিনি কাশ্মীরের স্বাধিকার আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন ১৯৫০ এর দশকে।


স্বাধীন ভারতে কাশ্মীরে শিক্ষা প্রসার ঘটেছে, নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থান হয়েছে রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন হয়েছে মানুষ কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সুমিত গাঙ্গুলীর মতে এই পরিবর্তন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক পরিসরের প্রসার আনেনি বরং গণতান্ত্রিক পরিসর ক্রমান্বয়ে সীমায়িত হয়েছে। ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে শেখ আব্দুল্লাহ কে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপরে থেকে কাশ্মীরে গণতন্ত্র খর্ব করে একের পর এক প্রধান-(মুখ্য)-মন্ত্রী বসানো হয়। বক্সী গুলাম মোহাম্মদ রাজত্ব করেন ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৩। খোজা শামসুদ্দিন ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেন এবং তার সময়েই কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়। এই সময় ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ ঘটে। এর পরে সায়েদ মীর কাসিম কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হন। এই সময়টাতে কাশ্মীরে এক ধরণের অসন্তোষের ফাল্গু ধারা বয়ে যায়। কাশ্মীরি মুসলিম সমাজ ধীরে ধীরে ভারতের গণতন্ত্রে আশ্বাস হারায় নির্বাচনকে প্রহসনে রূপান্তরিত করার জন্যে। কাশ্মীরের পণ্ডিত সমাজ ভারতের শাসনের সমর্থক ছিলেন যদিও তাদের মধ্যে অনেকেই এই নির্বাচনী প্রহসনের বিরুদ্ধে ছিলেন। কিন্তু স্বাধিকার রক্ষার লড়াইতে তারা গৌণ ছিলেন। তাদের জনসমর্থন ছিল সীমিত।


১৯৭১ সালে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে সার্বিক পরিবর্তন ঘটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে। বাংলাদেশে পাকিস্তানের ভূমিকা বহু কাশ্মীরি নেতার মধ্যে পাকিস্তানের মুসলামনদের স্বার্থ দেখার বিষয়ে সন্দেহ ঢোকায়। যে শাসকরা নিজের দেশের মুসলমানদের উপরে অত্যাচার করতে পারে তারা কিভাবে কাশ্মীরের স্বাধিকার রক্ষা করবে এই সন্দেহ ঘনীভূত হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এই যুদ্ধে পরাজিত হওয়াতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও এই সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থেকে পিছু হটে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শেখ আব্দুল্লাহ শ্রীমতি গান্ধীর সঙ্গে ১৯৭৫ সালে চুক্তি করেন । এর ফলে বিরোধী রাজনীতিতে যে শুন্যতা তৈরী হয় তা মূলত ভারত থেকে বিচ্ছিন্নবাদীদের প্রাধান্য দেয়। অন্য দিকে শেখ সাহেব বা তার পুত্র কেউই পুরোনো স্বাধিকার ফেরত আনতে অক্ষম হন। শেখ সাহেবের মৃত্যুর পরে পুরো আশির দশক এইভাবে ১৯৮৭ সালে আবার নির্বাচনে কারচুপি হয়। কিন্তু বিশ্ব পরিস্থিতি তখন অন্যরকম। আফগান যুদ্ধ তখন পরিসমাপ্তির মুখে। ভারতেও আস্তে আস্তে হিন্দু জাতীয়তাবাদের ঢেউ উঠছে। সেনাপতি জিয়া উল হক ঐস্লামিক পরিবর্তন আনতে চান পাকিস্তানে। পাকিস্তানের এর থেকে আন্তর্জাতিক জেহাদিরা দৃষ্টি ফেরায় কাশ্মীরে দিকে। পাকিস্তানে অবস্থিত জেহাদিরা কাশ্মীরে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বৃদ্ধি করে। সোভিএট্ ইউনিয়ন পতনের মুখে ফলে প্রতিবাদী রাজনীতি সমাজতান্ত্রিক এবং পুনর্বণ্টনের রাজনীতির থেকে পরিচিতি বোধের জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকছে।

১৯৮৯: কাশ্মীর থেকে পণ্ডিত সমাজের নিষ্ক্রমণের পটভূমি


১৯৮৯ সালের সেই সময় কাশ্মীর একান্ত বিক্ষুব্ধ। ১৯৮৮ সালের ৩১ জুলাই জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (JKLF) সশস্ত্র অভুথ্যান শুরু করে ভারতের থেকে ‘স্বাধীনতার’ জন্যে। দুটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে কাশ্মীরে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অনেক উঁচু পদে অবস্থিত হিন্দু অফিসার দের হত্যা করা হয়। টিক্কা লাল টাপলু, সভাপতি কাশ্মীর ভারতীয় জনতা পার্টি, খুন হন ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯, ৪ নভেম্বর ১৯৮৯ নীলকন্ঠ গাঞ্জু, যিনি বিচারক হিসাবে কাশ্মীরের ‘JKLF এর নেতা’ মকবুল ভাটের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন, তাকে হত্যা করা হয়। এমনকি লাসা কৌল, শ্রীনগর দূরদর্শনের প্রধানের মৃত্যু ঘটে গুপ্তঘাতকের হাতে ১৩ ফেব্রুয়ারী ১৯৯০তে । শ্রীনগরে অবস্থিত দুটি সংবাদমাধ্যম আলসাফা এবং শ্রীনগর টাইমস ১৬ এপ্রিল ১৯৯০ , হিজবুল মুজাহিদীন এর একটি চরমপত্র প্রকাশ করে। বিশেষত আলসাফা-এ ১৪ এপ্রিল ১৯৯০ প্রকাশিত একটি চরমপত্রে বলা হয় সমস্ত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জম্মু ও কাশ্মীর পরিত্যাগ করতে হবে দু’দিনের মধ্যে। জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল নিযুক্ত হয়েছেন দিল্লির জরুরি অবস্থায় যিনি দিল্লির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে সঞ্জয় গান্ধীর সহযোগিতা করছেন সেই গণতন্ত্র প্রেমী জগমোহন! যদিও জগমোহন প্রচুর সৈন্য মোতায়েন করেন কাশ্মীরিদের দমনের জন্যে। কিন্তু তিনি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিরাপত্তার কোনো আশ্বাস দেন নি। বরং মার্চ ১৯৯০-এ, দক্ষিণ কাশ্মীরের শহর অনন্তনাগ শহরে ,স্থানীয় বিধায়কের নেতৃত্বে কাশ্মীরি মুসলিমদের একটি প্রতিনিধি দল দেখা করে ভারত সরকারের এক পদস্থ কর্মচারী হাবীবুল্লাহ সাহেবের সঙ্গে। তারা বলেন পণ্ডিতরা কাশ্মীর পরিত্যাগ করে যাচ্ছেন তাদের থামান। হাবীবুল্লাহ তাদের বলেন যদি তারা পণ্ডিতদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন তাহলে অবশ্যই তিনি দূরদর্শনে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করবে। এটি রাজ্যপাল জগমোহন কিন্তু সম্প্রচার করেননি। বহু কাশ্মীরি পণ্ডিতদের তাদের মুসলমান প্রতিবেশীরা থেকে যাবার জন্যে মিনতি করেন কিন্তু পণ্ডিতরা এতটাই ভীত ছিলেন যে তারা কাশ্মীর ছেড়ে চলে আসেন। পরে জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ছাত্ররা একটি সার্ভে করে ২০০১ সালে তাতে দেখা যায় যারা এই সার্ভেতে অংশ নিয়েছেন তাদের মাত্র ২% সরাসরি চরমপত্র পেয়েছিলেন কাশ্মীর ত্যাগের। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অভিযোগে যে মন্দির ধ্বংস হয়েছে বলে বলা হয় তা সরাসরি মিথ্যে বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে কাশ্মীরের মুসলমানদের মধ্যে ও সাম্প্রদায়িক শক্তি রয়েছে। সায়েদ আন্দ্রাবি জামায়াত -এ -তুলবর নেতা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিশ্বাসঘাতক বলেছেন এবং তাদের কাশ্মীর থেকে নিষ্ক্রমণের দাবি জানিয়েছেন।

আসলে ১৯৮৮-৮৯-৯০ সালের হিংসা এবং রক্তপাত মানুষ কে বিচলিত করেছিল। ভয়ের থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হযেছিলো সেনানী এবং উগ্রবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষে। বহু মুসলমান কাশ্মীরি ওই সময়ে কাশ্মীর ছেড়ে ভারতে এবং বিদেশে আশ্রয় নেন। এমনকি মেহবুবা মুফতি যিনি পরে কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তাকে পণবন্দি করে সন্ত্রাসীরা (সঠিক তথ্য – রাবিয়া, মেহবুবার বোন অপহৃতা হয়েছিলেন – সম্পাদক)। ভারতীয় সেনা বাহিনীর প্রাক্তন মেজর এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আমার বন্ধু মারুফ রাজা মনে করেন যে এটি পাকিস্তানী মদতপুষ্ট সন্ত্রাসিদের কৌশল ছিল। এতদসত্ত্বেও সব কাশ্মীরি পণ্ডিত কাশ্মীর ছেড়ে চলে আসেননি। দুটি পন্ডিতপ্রধান গ্রামে, লাইগাঁওয়া এবং বান্দোই (উরির কাছে), এখনো প্রায় ১০০০ পন্ডিত থাকেন। আজও কাশ্মীর উপত্যকায় প্রায় চার হাজার পন্ডিত বসবাস করেন। যদিও তারা সুখেস্বস্তিতে আছেন একথা বলা যাবে না। ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি মানুষের সুখ স্বস্তি নষ্ট করে দেয়।

সংখ্যার রাজনীতি


কাশ্মীরে পন্ডিতদের সংখ্যা জনসংখ্যার অনুপাতে খুবই কম ছিল। শেষ জনগণনা ডোগরা মহারাজের সময়ে ছিল ১৯৪১ সালে কাশ্মীরে পন্ডিতদের সংখ্যা ছিল ৭৮,৮০০। পরে স্বাধীন ভারত সরকার জনগণনায় ধর্মের উল্লেখ বন্ধ করে দেয়। পানুন কাশ্মীর যে কাশ্মীরি পন্ডিতদের সংগঠন তার দাবি করেন যে ১৯৯০ সালে কাশ্মীরে পন্ডিতসমাজের সংখ্যা প্রায় ৭০০,০০০। কিন্তু জনসংখ্যার হিসাবে এটি অতিরঞ্জিত দাবি বলে মনে হয়। পানুন, কাশ্মীরের দাবি যে ভারত সরকার তাদের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে জনগণনার সময়ে। কিন্তু ব্রিটিশ ফরেন পলিসি ইনস্টিটিউটের বিদেশ নীতি বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্ডার এভান্স এর মতে কাশ্মীরের ১৯৯০ এর মধ্যে এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি হতে এলে প্রতি দশকে পন্ডিতসমাজের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হতে হবে 45 %এটা অসম্ভব বিশেষত একটি অতিশিক্ষিত সমাজের মধ্যে যাদের ফার্টিলিটি রেট (Fertility rate) অনেক কম। ডেমোগ্রাফারদের মতে কাশ্মীরে ১৯৯০ সালে ১৬০,০০০ পন্ডিত সংখ্যা ছিল। ১৯৯০ সালের পর থেকে এই পন্ডিতসমাজের ১৬০০০০ এর মধ্যে অধিকাংশই ভারতের বিভিন্ন শহরে চলে গেছেন জীবন ও জীবিকার তাগিদে। যারা রয়েছেন, প্রায় ৪০,০০্‌ এদের একটা বিরাট অংশ অত্যন্ত কষ্টে শরণার্থী শিবিরে জম্মুতে বাস করছেন। ১৯৯০ সালে থেকে ভারত সরকার প্রায় বৎসরে ৫০০,০০০ সৈন্য কাশ্মীরে নিরাপত্তার জন্য রেখে দিয়েছেন। কিন্তু কোনো সরকারই পন্ডিত সমাজ কে কাশ্মীরে পুনর্বাসনের ব্যব্যস্থা করতে পারেননি। আসলে সৈন্য দিয়ে, সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরী করা যায়। পারস্পরিক বোঝাপড়া করা যায় না। নিরাপত্তার ভিত্তি কিন্তু পারস্পরিক বোঝাপড়া।

পরিশেষ

১৯৪৭ থেকে ১৯৮৯ কাশ্মীরে সৈন্য সমাবেশ বেশি ছিল না কিন্তু পন্ডিত এবং মুসলমানরা পরস্পরের সাথে সহাবস্থান করতেন। যদিও এই সময়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলে জম্মু থেকে বহু মুসলমান বিতাড়িত হন কিন্তু কাশ্মীরে কোনোদিন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় নি। আজ সেখানে গত ত্রিশ বছরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেড়ে উঠছে কাঁদানে গ্যাস, কাঁটা তার, পেলেট চালনা এবং কারফিউ এর মধ্যে দিয়ে। কেউ ধর্মের কারণে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন আর কারো কাছে সেনাবাহিনীও সন্ত্রাসী – তারা নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়ে ভীত । প্রায় ৪০০০০ লোক সংঘর্ষে মারা গেছেন। রবীন্দ্রনাথ আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছিলেন পেশিশক্তির জাতীয়তাবাদ মানুষকে কখনো শান্তি দিতে পারে নি। পারবেও না। ভারত এবং পাকিস্তানের এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। যদিও কোনো ধর্মে বিশ্বাস করি না তবুও শেষ করতে চাই কাশ্মীরের সন্ত ঋষি শেখ নুরউদ্দিন এর সুরখ দিয়ে যিনি সুহা ভাট-এর পন্ডিতদের উপর অত্যাচার দেখে লিখেছিলেন


We belong to the same parents.
Then why this difference?
Let Hindus and Muslims(together)
Worship God alone.
We came to this world like partners.
We should have shared our joys
and sorrows together.

One Comment

  • Sd Mikail says:

    Very nice article. Misunderstanding is prevailing about Kashmir. We should try to know the reality. Humanity is first.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.